ঘড়ি দেখা শেখা: কাঁটা ঘড়িতে সময় দেখার নিয়ম আর খেলা

পুরো ঘণ্টা · সাড়ে · সোয়া ও পৌনে · ৫ মিনিট পরপর · প্রতি মিনিট

বিনা মূল্যেরেজিস্ট্রেশন লাগে নাখেলায় বিজ্ঞাপন নেইপ্রিন্ট করা যায়

প্রথম-তৃতীয় শ্রেণি · NCTB প্রাথমিক গণিত (বাংলাদেশ)

ধাপে ধাপে

  1. ছোট কাঁটা = ঘণ্টার কাঁটা। এটা যে সংখ্যায় আছে (বা যে সংখ্যা সবে পেরিয়েছে), সেটাই ঘণ্টা।
  2. বড় কাঁটা = মিনিটের কাঁটা। এটা যে সংখ্যায় আছে, সেটাকে ৫ দিয়ে গুণ করলে মিনিট: ৩-এ থাকলে ১৫ মিনিট, ৬-এ থাকলে ৩০ মিনিট।
  3. বড় কাঁটা ১২-তে: পুরো ঘণ্টা - "৩টা বাজে"।
  4. বাংলায় সময় বলা:
ঘড়িতে বাংলায় বলি
৩:০০ তিনটা
৩:১৫ সোয়া তিনটা
৩:৩০ সাড়ে তিনটা
৩:৪৫ পৌনে চারটা
১:৩০ দেড়টা (সাড়ে একটা নয়)
২:৩০ আড়াইটা (সাড়ে দুইটা নয়)
৩:১০ ৩টা বেজে ১০ মিনিট
৩:৫০ ৩টা বেজে ৫০ মিনিট (মুখে: চারটা বাজতে দশ মিনিট বাকি)

পশ্চিমবঙ্গে "তিনটে", "সাড়ে তিনটে" বলা হয় - একই সময়।

ঘড়ি দেখার খেলা: সাড়ে তিনটা দেখাও

পুরো ঘণ্টা · ১০টি প্রশ্ন · সময়ের বাঁধা নেই ·

প্রিন্টের ওয়ার্কশিট

নিজের ওয়ার্কশিট বানান

অংকের সংখ্যা
সাজানো
দ্বিতীয় পাতায় উত্তর
কাগজ
আলাদা সেট

কাঁটা ঘড়ি: ঘণ্টার কাঁটা আর মিনিটের কাঁটা
সোয়া, সাড়ে আর পৌনে ঘড়িতে

ঘড়ি দেখা শেখা: দুটি কাঁটার কাজ

কাঁটা ঘড়ি দেখার নিয়ম আসলে দুটো: ছোট কাঁটা বলে ঘণ্টা, বড় কাঁটা বলে মিনিট। ওপরে ধাপে ধাপে দেখানো আছে, আর বাংলায় সময় বলার টেবিলটাও। বাচ্চাদের ঘড়ি দেখা শেখানো সাধারণত প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণিতে শুরু হয়: আগে পুরো ঘণ্টা, তারপর সাড়ে, তারপর সোয়া আর পৌনে, শেষে ৫ মিনিট পরপর আর প্রতি মিনিট। মোবাইলে ডিজিটাল সময় দেখে অভ্যস্ত শিশুদের জন্য কাঁটা ঘড়িটাই নতুন।

মিনিটের কাঁটা আর ৫-এর নামতা

ঘড়ির মুখে ১২টি সংখ্যা, আর বড় কাঁটা এক সংখ্যা থেকে পরের সংখ্যায় যেতে ৫ মিনিট লাগে। তাই মিনিট বের করতে ৫-এর নামতা লাগে: কাঁটা ৪-এ মানে ২০ মিনিট, ৯-এ মানে ৪৫ মিনিট। যে শিশু ৫-এর নামতা জানে, তার কাছে মিনিট পড়া খুব সহজ; না জানলে ৫-এর নামতার পাতা থেকে শুরু করুন।

বাংলায় সময়: সোয়া, সাড়ে, পৌনে

বাংলায় সময় বলার নিজস্ব শব্দ আছে। ১৫ মিনিট পেরোলে সোয়া (সোয়া তিনটা), ৩০ মিনিটে সাড়ে (সাড়ে তিনটা), আর পরের ঘণ্টার ১৫ মিনিট আগে পৌনে (পৌনে চারটা)। দুটি ব্যতিক্রম শিশুদের আলাদা করে শেখাতে হয়: ১টা ৩০ হলো দেড়টা, আর ২টা ৩০ হলো আড়াইটা। এ ছাড়া বইয়ের মতো "৩টা বেজে ১০ মিনিট" আর "৩টা বেজে ৫০ মিনিট" ধরনের কথাও খেলায় আসে; মুখে অনেকে বলে "চারটা বাজতে দশ মিনিট বাকি"।

বাড়িতে ঘড়ি দেখা শেখানোর উপায়

দিনের ঘটনার সাথে সময় মেলান: "স্কুল শুরু সাড়ে আটটায়, এখন ঘড়িতে দেখো তো কয়টা বাজে?" তৃতীয় ওয়ার্কশিট দিয়ে কাগজের ঘড়ি বানিয়ে নিন: শিশু নিজে কাঁটা ঘুরিয়ে সময় দেখাক। প্রথমে শুধু পুরো ঘণ্টা আর সাড়ে, এক সপ্তাহ পর সোয়া আর পৌনে। ছোট কাঁটার একটা ভুল খুব চেনা: সাড়ে তিনটায় ছোট কাঁটা ৩ আর ৪-এর মাঝখানে থাকে, তাই অনেকে ৪টা পড়ে ফেলে। মনে করিয়ে দিন, ছোট কাঁটা যে সংখ্যা সবে পেরিয়েছে, ঘণ্টা সেটাই।

খেলাটা কীভাবে চলবে

ঘড়ির খেলায় দুই ধরনের প্রশ্ন থাকবে: কাঁটা টেনে বলা সময় দেখানো, আর ঘড়ি দেখে চারটি উত্তর থেকে সঠিক সময় বেছে নেওয়া।

ডিজিটাল আর কাঁটা ঘড়ি

মোবাইলে ৩:৪৫ দেখলে বাংলায় বলি পৌনে চারটা। খেলায় দুই রকম ঘড়িই পাশাপাশি দেখায়, যাতে শিশু দুটো মেলাতে শেখে।

সাধারণ ভুল

দুটো কাঁটা উল্টে পড়া আর পৌনে-কে আগের ঘণ্টার সাথে মেলানো (পৌনে চারটাকে ৪টা ৪৫ ভাবা) সবচেয়ে চেনা ভুল।

এক নজরে

ছোট কাঁটা ঘণ্টা, বড় কাঁটা মিনিট, আর বাংলায় সোয়া, সাড়ে, পৌনে। রোজ দিনের কাজের সময় ঘড়িতে দেখান।

প্রশ্ন ও উত্তর

ঘড়ি দেখার নিয়ম কী?

ছোট কাঁটা ঘণ্টা দেখায়, বড় কাঁটা মিনিট। বড় কাঁটা যে সংখ্যায়, তাকে ৫ দিয়ে গুণ করলে মিনিট।

দেড়টা মানে কয়টা?

১টা ৩০ মিনিট। আর আড়াইটা মানে ২টা ৩০ মিনিট।

পৌনে চারটা মানে কী?

চারটা বাজতে ১৫ মিনিট বাকি, অর্থাৎ ৩টা ৪৫ মিনিট।

বাচ্চাদের ঘড়ি দেখা কোন বয়সে শেখানো যায়?

সাধারণত ৬-৭ বছর বয়সে, প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণিতে, আগে পুরো ঘণ্টা দিয়ে।

বাচ্চাদের ঘড়ি দেখাও বা সময় দেখা ঘড়ির ছবি কোথায়?

টাইম দেখা ঘড়ির ছবি আর সময় দেখা ঘড়ির ওয়ার্কশিট নিচের PDF-এ।